Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিটিজেন চার্টার

প্রকল্প প্রণয়নঃ

          স্থানীয় জনগনের মতামত, চাহিদা বা প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আলোচনার ভিত্তিতে ‘‘বটমআপ’’ পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়, অর্থাৎ উপর থেকে (টপ ডাউন) প্রকল্প চাপিয়ে দেয়া হয় না।প্রাথমিক অনুসন্ধান, যাচাই-বাছাইয়ের পর বিস্তারিত সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন যোগ্য প্রকল্পের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (Development Project Proposal/Proforma-DPP)বা ডিপিপি প্রস্ত্তত করা হয়।প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের আর্থিক সীমা অনুসারে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়,পরিকল্পনা কমিশন বা একনেক কর্তৃক ডিপিপি অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বা এডিপি প্রণয়ন করা হয়।অতঃপর প্রচলিত সরকারী বিধি বিধান, নীতি ও আইন অনুসারে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

 

.    বাপাউবোকার্যাবলীঃ

            বাপাউবো আইন ২০০ ০অনুসারে বাপাউবো’র সার্বিক কার্যাবলী পরিচালিত হয়।জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ ও জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা-২০০৪ এর আলোকে এবং অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে বোর্ড নিম্মবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালন, রক্ষনাবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে।বাপাউবো’র সার্বিক কার্যাবলী প্রধানত দুইপ্রকার, যথাকাঠামোগত(Structural) এবং অ-কাঠামোগত (non-structural) ও সহায়ক কার্যাবলী, যা নিম্মরুপঃ

 

.     কাঠামোগত কার্যাবলীঃ

(ক) নদী ও নদী অববাহিকা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন এবং বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানি নিস্কাশন, সেচ ও খরা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জলাধার, ব্যারেজ,বাঁধ, রেগুলেটর বা অন্য যেকোন অবকাঠামো নির্মাণ;

(খ) সেচ, মৎসচাষ, নৌ-পবিহন, বনায়ন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পানি প্রবাহের উন্নয়ন কিংবা পানি প্রবাহের গতি পথ পরিবর্তনের জন্য জলপথ, খালবিল ইত্যাদি পুনঃখনন;

       (গ) ভূমিসংরক্ষণ, ভূমিপরিবৃদ্ধি ও পুনরুদ্ধার এবং নদীর মোহনা নিয়ন্ত্রণ;

(ঘ)   তীর সংরক্ষণ ও নদী ভাঙ্গন হতে সম্ভাব্যক্ষেত্রে শহর, বাজার, হাট এবং ঐতিহাসিক ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ সংরক্ষণ;

       (ঙ)উপকুলীয় বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ;

       (চ) লবণাক্ততার অনুপ্রবেশরোধ এবং মরুকরণ প্রশমন;

       (ছ) সেচ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পানীয়জল আহরণের লক্ষ্যে বৃষ্টির পানিধারণ;

 

.       -কাঠামোগত সহায়ক কার্যাবলীঃ

       (জ) বন্যা ও খরা পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ;

(ঝ) পানিবিজ্ঞান সম্পর্কিত অনুসন্ধান কার্যপরিচালনা এবং এতদসম্পর্কিত তথ্য ও উপাত্ত গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ;

(ঞ) পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ননের লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগীতায় এবং সম্ভাব্যক্ষেত্রে বোর্ডের সৃষ্ট অবকাঠামোভুক্ত নিজস্ব জমিত বনায়ন, মৎস্য চাষ কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং বাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ;

       (ট)বোর্ডের কার্যাবলীর উপরমৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা;

(ঠ)   বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুফল সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের সংগঠিতকরণ, প্রকল্পে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, প্রকল্পপরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ (পওর) এবং

       (ড) প্রকল্পব্যয় পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিভিন্ন কলাকৌশল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উদ্ভাবন, বাস্তবায় নও পরিচালন।

 

 

.       বন্যাপূর্বাভাষ সতর্কীকরণঃ

বাংলাদেশে বন্যা একটি বড় সমস্যা। ইহাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়া সহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা এবং বন্যা মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্ত্ততি গ্রহণের জন্য পাউবোতে ৪৮ ঘন্টা এবং ৭২ ঘন্টার আগাম বন্যাপূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে।দীর্ঘমেয়াদী বন্যা ও খরা পূর্বাভাষ প্রদানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।মৌসুমী বন্যা পূর্বাভাষ প্রদানে কারিগরী সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে বাপাউবো বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

 

 

4.0       দূর্যোগ ব্যবস্থাপনাঃ

বাপাউবো দেশের ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, বন্যা এবং এসব দূর্যোগ মোকাবেলা, দূর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং পানিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত।এ জন্য সরকারী বিধি বিধান যেমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্থায়ী আদেশ (Standing Order for Disaster - SoD)অনুসরণ করা হয়।বন্যার সময় বাপাউবো’র কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ সার্বক্ষণিক নজরদারীতে নিয়োজিত থেকে বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।উপকুলীয় বাঁধ ও ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস থেকে জনজীবন ও সহায়-সম্পদ রক্ষা করছে। বাপাউবো’র বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে উপকুলীয় এলাকায় ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। নদীভাঙ্গন আরেকটি ভয়াবহ দূর্যোগ, যাতে বিপুল জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙ্গন রোধকল্পে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং হচ্ছে।এ বিষয়ে পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্পুরক সেচ সুবিধার আওতায় খরাজনিত দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরী করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী খরা মোকাবেলা করছে।

 

5.0      ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন বসতীস্থাপনঃ

নদী এবং সমূদ্র থেকে ভূমি উদ্ধার করে যথাযথ কাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের পর ঐ সব জমিতে ভূমিহীন লোকদের সংগঠিত করে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম চলমান আছে। এটি আন্তঃসংস্থা/মন্ত্রণালয় সমন্বিত কর্মসূচী। এ পর্যন্ত সমূদ্র থেকে প্রায় ১.১০২ লক্ষ হেঃ ভূমি উদ্ধার করে তাতে ভূমিহীন লোকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সংগঠিত বসতি স্থাপন করা হয়েছে।